পিছু হটলো বিএনপি

ডেস্ক রিপোর্ট» ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েও পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার দোহাই দিয়ে পিছু হটলো বিএনপি। সর্বশেষ ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং সারা দেশের মহানগর ও জেলা সদরগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এই মুহূর্তে কোনো সংঘাতের পথে যেতে চায় না বিএনপি। আপাতত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দিয়ে সারা বিশ্বকে দেখাতে চায় তারা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। পাশাপাশি চলমান পরিস্থিতিতে আলোচনার কথা বলে সরকারকে একটা চাপে রাখতে চায়। জনগণের কাছে এই বার্তা দিতে চায় বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না। তারা বাধ্য হয়ে ঘরোয়াভাবে আলোচনাসভা করার মাধ্যমে দাবি আদায়ের কথা তুলে ধরার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

‘বিপ্লব ও সংহতি’ দিবস পালনের অংশ হিসেবে প্রথমে ৭ ও পরে ৮ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চেয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে আবেদন করেছিল বিএনপি। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে ৮ নভেম্বর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালযের সামনে সমাবেশের অনুমতি চেয়ে ফের আবেদন করে বিএনপি। ওখানেও অনুমতি না পেয়ে ফের ১৩ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি চায় দলটি। রবিবার (১৩ নভেম্বর) সোহরাওয়ার্দী ‍উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিলও সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি।

এর আগে গত মঙ্গলবার ২ ঘণ্টার নোটিসে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ২৭ শর্তে বিএনপিকে বিকেলে সমাবেশ করার অনুমতি দেয় পুলিশ। কিন্তু বিএনপির বক্তব্য-তারা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের জন্য আবেদন করেননি। তা ছাড়া ২ ঘণ্টার নোটিসে কোনো সমাবেশ হতে পারে না। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ছাড়া কোথাও সমাবেশ করবে না বলে জানায় বিএনপি।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি ও জনতার বিপ্লবে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসেন। এ দিবসটিকে বিএনপি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। আওয়ামী লীগসহ জাসদ দিবসটি ‘মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে।

৭ নভেম্বরের আগে ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়। জাতীয় চার নেতাকে হত্যায় জিয়াউর রহমানকে দায়ী করে তার গড়া দল বিএনপির ৭ নভেম্বরের কর্মসূচি পালন না করতে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ।

ওই হুমকির জবাবে এর আগে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছিলেন, ‘৭ নভেম্বর হচ্ছে এ দেশের দ্বিতীয় স্বাধীনতাযুদ্ধে স্বাধীনতা নিশ্চিত করার বিপ্লব। এদিন আমাদের কর্মসূচি হবে। আপনারা প্রতিহত করবেন, পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবিকে লেলিয়ে দেবেন। আমরা বলতে চাই, এদিন আমরা শান্তির প্রতীক জলপাইয়ের পাতা নিয়ে মুক্তকণ্ঠে গান গাইতে গাইতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে উপস্থিত হব। দেখি কত গুলি আছে, আপনারা জনগণের শক্তিকে কীভাবে প্রতিহত করেন?’

এ ছাড়া মাহবুব-উল-আলম হানিফের বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ১ নভেম্বর (মঙ্গলবার) এক আলোচনায় বলেন, ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে যেকোনো মূল্যে সমাবেশ করবে বিএনপি, তুমি হানিফ পারলে ঠেকাও।’

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ওই আলোচনায় তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সমাবেশ যেকোনো মূল্যে করা হবে, হানিফের ক্ষমতা থাকলে সে যেন ঠেকায়।

সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে নয়াপল্টনে রবিবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে বিএনপি। ওই সংবাদ সম্মেলনে ১৪ নভেম্বর ঢাকা মহানগরীর থানায় থানায় এবং সারা দেশের মহানগর ও জেলা সদরগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ পালন করার ঘোষণা দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি অভিযোগ করেন, ‘পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল একাধিকবার ডিএমপিতে গেলেও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাক্ষাৎ করেননি। যে-দিন সমাবেশ ছিল ওই দিনই দুপুর ২টায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আমাদের অনুমতি দেওয়া হয়। এটা বিরোধী দলের সঙ্গে প্রতারণা, এভাবে গোটা জাতিকে বোকা বানাতে চায় সরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজকে (রবিবার) গণপূর্ত অধিদফতর থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের জন্য পুলিশ অনমুতিপত্র লাগবে।’

জনসভার মাধ্যমে দাবি তুলে ধরা সাংবিধানিক অধিকার উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, ‘এখন কোনো জরুরি অবস্থা চলছে না যে, কোনো সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া যাবে না। জনসভার অনুমতি না দিয়ে আমাদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক সংকট নিরসনে আমরা বারবার আলোচনার কথা বলছি। কিন্তু সরকার কোনো কর্ণপাত করেনি। আমরা আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান চাই।’

সমাবেশ করা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী বলেন, ‘বিএনপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনে বিশ্বাস করে। আমরা সমাবেশ করার জন্য বার বার সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু সরকার তাতে কোনো কর্ণপাত করেনি। এখানে সরকার প্রমাণ দিয়েছে গণতন্ত্রের প্রতি ন্যূনতম শ্রদ্ধা নেই তাদের। এভাবেই প্রতিনিয়ত আমাদের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘এভাবে বেশি দিন চলতে পারে না। মানুষ তাদের অধিকার রক্ষায় ঘুরে দাঁড়াবেই।’

দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ বলেন, ‘সরকার সুকৌশলে বিএনপির সমাবেশ করতে দেয়নি। কারণ আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছিলেন, বিএনপি প্রেস ক্লাবে আলোচনাসভায় সীমাবদ্ধ আছে। ৭ নভেম্বর কোনো প্রতিবাদসভা ছিল না, এটা স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ ছিল। এখানে লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে, তাদের বক্তব্য মিথ্যা হয়ে যাবে, তাই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে চায়। কিন্তু স্বৈরাচারী সরকার গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না তার প্রমাণ দিয়েছে। আমরা বিক্ষোভ সমাবেশ পালনের মধ্য দিয়ে জনগণের কাছে এই বার্তাই দিতে চাই।’
।। দ্য রিপোর্ট

প্রকাশক সম্পাদক : জাহাঙ্গীর কবির লিটন
এলাহী মার্কেট , ২য় তলা, বড় মসজিদ গলি, ট্রাংক রোড,ফেনী।
jagofeni24@gmail.com
© 2016 allrights reserved to JagoFeni24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com