খাদিজা হত্যা চেষ্টা মামলার অভিযোগপত্র দায়ের

ডেস্ক রিপোর্ট» সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার হামলার শিকার খাদিজা বেগম নার্গিসেরকে কুপিয়ে মারাত্মক আহত করার ১ মাস ৪ দিন পর মঙ্গলবার আদালতে আসামি বদরুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে পুলিশ উল্লেখ করেছে, বার বার প্রেম নিবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ক্ষিপ্ত ছিল বদরুল। এই ক্ষিপ্ততারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে চাপাতি হাতে নার্গিসের উপর তার আক্রমণে। এই অভিযোগপত্রের বিস্তারিত তুলে ধরেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিলেটের শাহপরান থানার উপ-পরিদর্শক হারুন-উর-রশীদ। হারুন-উর-রশীদ বলেন, ঘটনাস্থলের সব প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে, সব আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা অভিযোগপত্রের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। আদালত এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন। বাংলাদেশের বাস্তবতায় বেশ দ্রুততার সঙ্গেই চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটির তদন্ত শেষ করে অভিযোগপত্র জমা দিল পুলিশ। কিন্তু তারপরও এই ঘটনাটি ছিল একেবারেই পরিষ্কার। খাদিজার উপর বদরুলের হামলার একাধিক ভিডিও রয়েছে, যা প্রত্যক্ষদর্শীরাই ধারণ করেছেন। তাছাড়া ধরা পরার পর অভিযুক্ত বদরুল নিজেও তার কৃতকর্ম স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন। তবে কেন অভিযোগপত্র জমা দিতে মাসাধিক সময় লাগল? তদন্ত কর্মকর্তা হারুন-উর-রশীদ বলেন, “আমরা আসলে অপেক্ষা করছিলাম ভিকটিমের সাক্ষ্য নেবার জন্য। এজন্যই দেরি করছিলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে পুরোপুরি সেরে না ওঠার কারণে তার সাক্ষ্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই তার সাক্ষ্য গ্রহণ ছাড়াই অভিযোগ পত্র জমা দিতে হল”। হারুন-উর-রশীদ বলেন, এখন আদালত যদি মনে করে খাদিজার বক্তব্য শোনা প্রয়োজন তবে সে সেরে ওঠার পর তাকে আদালতে তলব করতে পারেন। এই অভিযোগপত্র জমা দেবার পর সন্তোষ প্রকাশ করেন সিলেটের আদালত চত্বরে উপস্থিত খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুছ। তিনি খাদিজার উপর হামলার ন্যায় বিচার ও অভিযুক্ত বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করবার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় গত ৩রা অক্টোবর বিকেলে সিলেটের এমসি কলেজের সামনে কলেজ ছাত্রী খাদিজা বেগমকে চাপাতি দিয়ে উপর্যুপরি কুপিয়ে আহত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র এবং ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। এরপর থেকে খাদিজা ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্রথম দিকে খাদিজা বেঁচে থাকবেন এমন আশা ছিল না, তবে তিনি এ যাত্রা বেঁচে গেছেন এবং খুবই ধীর গতিতে সেরে উঠছেন। এখন খাদিজা অল্প স্বল্প কথা বলতে পারেন, তবে তা অসংলগ্ন। আর শরীরের বিভিন্ন অংশ সামান্য নড়াচড়া করতে পারেন বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে।

প্রকাশক সম্পাদক : জাহাঙ্গীর কবির লিটন
এলাহী মার্কেট , ২য় তলা, বড় মসজিদ গলি, ট্রাংক রোড,ফেনী।
jagofeni24@gmail.com
© 2016 allrights reserved to JagoFeni24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com