মিরসরাইয়ে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ ডাকাতের পরিচয় মিলেছে

মিরসরাই প্রতিনিধি» মিরসরাইয়ে র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩ ডাকাতের মধ্যে ২ ডাকাতের পরিচয় মিলেছে। এরা হলো সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের সিএনজি অটোরিক্সা চালক লিয়াকত। অন্যজন নোয়াখালী জেলার চরবাধা এলাকার সাদ্দাম। তবে সে সীতাকুন্ডের সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। রবিবার (৩০ অক্টোবর) ২ ডাকাতের পরিচয় সনাক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরসরাই-সীতাকুন্ড এএসপি সার্কেল মাহবুবুর রহমান। সনাক্তের পর দুই ডাকাতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরসরাই থানার এসআই অলিউল ইসলাম।
মিরসরাই থানার জৈষ্ঠ্য উপ-পরিশক শফিকুল ইসলাম পিপিএম জানান, বন্দুকযুদ্ধে ৩ ডাকাত নিহতের ঘটনায় মিরসরাই থানায় শনিবার (২৯ অক্টোবর) পৃথক ৩ টি মামলা দায়ের করে র‌্যাব। র‌্যাব ফেনী ক্যাম্পের ডিজেও ওয়ারেন্ট অফিসার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি মামলা নং ১১, হত্যা মামলা নং ১২, ও অস্ত্র মামলা নং ১৩ দায়ের করেছেন।
মিরসরাই-সীতাকুন্ড এএসপি সার্কেল মাহবুবুর রহমান জানান, শনিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৩ ডাকাতের মধ্যে ২ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে লিয়াকত সীতাকুন্ড উপজেলার বাড়বকুন্ড ইউনিয়নের বাসিন্দা। সে সিএনজি অটোরিক্সা চালক তার শ্বশুর বাড়ি নোয়াখালীতে। অপরজন সাদ্দাম সীতাকুন্ড উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বার আউলিয়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতো। তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার চরবাধা এলাকায়। তার সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি। অন্য জনের লাশ পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
বাড়বকুন্ড ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছাদাকাত উল্ল্যাহ মিয়াজী জানান, নিহত ডাকাত লিয়াকত তার ইউনিয়নের ভূঁইয়াপড়া এলাকার বাসিন্দা। সে পেশাদার ডাকাত ছিল। এক বছর পূর্বে ডাকাতির অভিযোগে এলাকাবাসী তাকে গ্রাম থেকে বের করে দেয়। পরে পিএসপি এলাকায় অবস্থান করছিল বলে লোকমুখে শুনেছি।
এদিকে, নিহত ডাকাত সাদ্দামের বিষয়ে জানতে সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির আহম্মদকে একাধিকবার ফোনে করলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সীতাকুন্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইফতেখার হাসান বলেন, তাদের সঠিক পরিচয় পাওয়ার পরেই জানা যাবে তাদের বিরুদ্ধে কয়টি মামলা এবং কি ধরনের মামলা ছিল।
প্রসঙ্গত, শনিবার (২৯ অক্টোবর) ভোররাতে সাধারণ যাত্রী ভেবে ডাকাতরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র এলাকায় ফেনী থেকে চট্টগ্রামমুখী র‌্যাবের একটি মাইক্রোবাসকে ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতির চেষ্টার সময় বন্দুকযুদ্ধে ৩ ডাকাত নিহত হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ। মহাসড়কে র‌্যাব ফেনী অফিসের একটি টিম টহলে ছিল। নিজামপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে ৫০০ গজ সামনে কমলদহ এলাকায় হঠাৎ র‌্যাবের ব্যবহৃত সিভিল মাইক্রোবাসের চাকায় গুলি করে পাংচার করে ডাকাতরা। পেছন দিক থেকে গাড়ীর কাচেও গুলি করে। এসময় আতœরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা গাড়ি থেকে নামলে ডাকাতদের সাথে র‌্যাবের মুখোমুখি গোলাগুলি হয়। র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে অজ্ঞাতনামা ৩ ডাকাত নিহত হয়। এসময় ঘটনাস্থল থেকে তিনটি পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার গান, দুটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি, ১১ রাউন্ড গুলির খোসা, চারটি দা ও ছোরা, দুইটি লোহার পাইপ, দুইটি ভ্যানিটি ব্যাগ, তিনটি ইমিটেশনের গয়না, তিনটি মানিব্যাগ, নগদ ১১ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়।

প্রকাশক সম্পাদক : জাহাঙ্গীর কবির লিটন
এলাহী মার্কেট , ২য় তলা, বড় মসজিদ গলি, ট্রাংক রোড,ফেনী।
jagofeni24@gmail.com
© 2016 allrights reserved to JagoFeni24.Com | Desing & Development BY PopularITLtd.Com, Server Manneged BY PopularServer.Com